বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন

রেজিস্ট্রেশন ফি উত্তোলনের পর বোর্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগ প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে

১৩

গাজীপুর প্রতিনিধি:
জুনিয়র দাখিল পরীক্ষা জেডিসি’র পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি উত্তোলন করে তা বোর্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের এক মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। ফলে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা যেখানে অটোপাশে উত্তীর্ণ হয়েছে, সেখানে মাদ্রাসাটির ৪৬ জন পরীক্ষার্থী জীবন থেকে হারিয়েছে মূল্যবান একটি বছর। গাজীপুরের হোতাপাড়ায় অবস্থিত মনিপুর মোস্তাফিয়া মাদ্রাসার ২০২০ সালের জেডিসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, পুরো বিষয়টি শুরু থেকেই গোপণ রেখে এসেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এমনকি ওই ৪৬ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয়েছে নবম শ্রেণিতেও। তবে এক পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন ও পরবর্তীতে পরীক্ষার ফি বাবদ বোর্ডের ধার্যকৃত ফি -এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে। তথাপি কেন ধার্যকৃত সামান্য ফি-টুকু বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হলো না, তা বোধগম্য নয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত অবহেলাকেই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন তারা।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, নতুন বছরে ভর্তি ফি নিয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়েছে ওই শিক্ষার্থীদের সবাইকে। এমনকি তাদের হাতে হাতে দেওয়া হয়েছে নতুন বই। তবে কোনো শিক্ষার্থীই তুলতে পারছিলেন না পাশের সনদপত্র কিংবা মার্কশিট। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধুম্রজাল পরিস্থিতি পাড় করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপাচাপিতে এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে আসল সত্য।

তবে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক একেএম আব্দুর রহমানের এরকম দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান এবং ক্যামেরার সামনে কথা বলে রাজি হননি।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অটোপাশ ব্যবস্থায় সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে সনদপত্র। এই মহামারী যেন তাদেরকে পিছিয়ে না দেয় এবং ভবিষ্যৎ জীবনে প্রভাব না ফেলে, সে জন্য সরকারের এই অটোপাশ ব্যবস্থা। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের গাফেলতি ও দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা কিভাবে প্রতিকার পাবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তাছাড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই বা কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা দেখার অপেক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

মাদ্রাসা শিক্ষকের এমন দুর্নীতির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি লিটন মিয়া। অপরদিকে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটিসি) আফরোজা আক্তার রিবা।

এদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দুর্নীতির কারণে ৪৬ জন শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে একটি বছর উপক্রম হয়েছে। নির্দিষ্ট ফি প্রদান সাপেক্ষে বিশেষ বিবেচনায় এসব শিক্ষার্থীদের অটোপাশের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সচেতন মহল।

 

Niyog Biggopti

Leave A Reply

Your email address will not be published.